সূর্য জন্ম কুন্ডলীর দ্বিতীয় ভাবে
- anirudhbhattachary5
- Jul 12, 2025
- 3 min read

যদি জাতকের জন্ম কুন্ডলীর দ্বিতীয় ভাবে সূর্য থাকে তাহলে আপনি ঠিক কি পরিদৃশ্য দেখতে পারেন? যদিও রাশি নক্ষত্রের দরুন তার ফলাফল ভিন্ন হবে। এবং জন্ম কুন্ডলীর বিভিন্ন গ্রহাবস্থান, তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং দৃষ্টি (aspects) ইত্যাদি বিভিন্ন ভাবে তারতম্য আনবে।
“গলিত সোনা” — দ্বিতীয় ভাবে সূর্য
জ্যোতিষ শাস্ত্রে, রবি (সূর্য) শুধুমাত্র রাজাই নন—তিনি হলেন আলোদাতা, যিনি নিজে দেখেন এবং যাকে দেখা যায়। তিনি আত্মা, ইচ্ছাশক্তি ও পরিচয়ের বোধ নিয়ন্ত্রণ করেন। যখন তিনি দ্বিতীয় ভাবে অবস্থান করেন—যেটি খাদ্য, পারিবারিক সম্পদ, বাকশক্তি ও মূল্যবোধের ঘর—তখন তাঁর আলো আপনার ভান্ডারে, আপনার সংশাধনের ব্যবস্থাপনায় প্রবেশ করে।
কিন্তু সূর্য উত্তপ্ত। যদি তাকে নম্রতা দিয়ে শীতল না করা হয়, তবে সে নিজের ভান্ডারকেও পোড়াতে পারে।
উদাহরণের জন্য একটি সামগ্রিক পরিচিতি-
ধরুন আদিত্য কে —একজন কিংবদন্তি স্বাধীনতা সংগ্রামীর প্রথম পুত্র।
শৈশব থেকেই সে নেতার মতো হাঁটে, পুরোহিতের মতো কথা বলে, রাজার মতো সিদ্ধান্ত নেয়।
তার কণ্ঠস্বর শঙ্খের মতো গম্ভীর।
তার আলমারি চকচক করে পালিশ করা পিতলের মতো।
তার বাড়িতে নিয়ম আছে; এমনকি জন্মদিনের কার্ডেও লেখা: “ভারতের ভবিষ্যৎ দৃষ্টিশালী”।
জ্যোতিষ মতে, দ্বিতীয় ভাবে সূর্য প্রদান করে:
আর্থিক বিষয়ে কর্তৃত্ব।
পিতা, সরকার বা রাজকীয় পেশা থেকে ধন লাভ।
শক্তিশালী প্রকাশ্য কণ্ঠ—প্রায়ই রাজনীতি, নেতৃত্ব, অথবা পারিবারিক সম্পদের ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত হয়।
কিন্তু বাস্তব পরীক্ষা নেতৃত্ব নয়। প্রকৃত প্রশ্ন হল:
এই ব্যক্তি কি সূর্যের ভার বহন করতে পারবে, নিজের সোনা না গলিয়ে?
বয়স জনিত দ্বন্দ্ব
৩২ বছর বয়সে, আদিত্য পারিবারিক মসলা রপ্তানির ব্যবসা গ্রহণ করে। তার দৃষ্টিভঙ্গি আছে, আবেগ আছে, নেতৃত্বের আগুন আছে। কিন্তু সূর্য দ্রুত পোড়ায়, তার নৈসর্গিক চরিত্র তাই।
সে একজন বিশ্বস্ত পরিবেশককে বাদ দেয় কারণ তাদের অফিস দেখে আদিত্যর মনে হয় - “সস্তা দেখাচ্ছে ”।
তার সমস্ত রিজার্ভ সে ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্বব্যাপী প্রচারে ব্যয় করে—বড়দের পরামর্শ ছাড়াই।
হিসাবরক্ষককে বলে: “আমি কিছু লুকোচ্ছি না, আমার অডিট করার দরকার নেই।”
এর ফলাফল কি হতে পারে?
বিদেশি পার্টনার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে। চালান বন্দরে আটকে যায়।
কর দপ্তরের জরিমানা আসে।
কর্মচারীরা ধর্মঘট করে,
আদিত্য বুঝতে পারে সত্যটি— যে.. পরিস্থিতি তাকে বলছে: “ছায়াহীন সূর্য পৃথিবীকে দগ্ধ করে।”
তার অর্থ, যখন রবি জ্ঞানহীনভাবে দ্বিতীয় ভাবে প্রবেশ করে, তখন ভান্ডার হয়ে ওঠে অগ্নিকুণ্ড। সোনা চুরি হয়ে যায় না—গলে যায় অহংকারের কারণে।
ধনভাবে সূর্য বোঝায়:
নিজের ইচ্ছাশক্তি (স্বইচ্ছা) দ্বারা অর্জিত ধন।
পূর্বজদের (বিশেষত পিতা ও পিতৃগণ) সঙ্গে কর্মফলগত সংযোগ।
একটি আগুন যা নিয়ন্ত্রিত ও রূপান্তরিত হতে হয়—গলিত সোনার মতো।
কিন্তু যদি রবি খুব শক্তিশালী হয় বা প্রভাবহীন থাকে, অহংকার উপচে পড়ে। তখন ধর্মও হয়ে যায় একনায়কতন্ত্র। কণ্ঠস্বর হয়ে পড়ে কঠোর। ধন আসে—কিন্তু থাকে না। দ্বিতীয় ভাবে সূর্য চায়: নম্রতা, সেবা এবং আচার।তা না হলে, সে নিজের ঘরও পুড়িয়ে দেয়। কিন্তু এইগুলো সহজে রপ্ত করার মতন পরিস্থিতি হয় না। নির্ভর করে রাশি ও নক্ষত্রের উপর।
তাহলে সমাধান কি?
আদিত্যর পারিবারিক পুরোহিত—একজন কোমল স্বভাবের বৈদিক পণ্ডিত—এসে তাঁকে একটি সূর্য প্রতিকারের মণ্ডল দেন। তিনটি স্তরে বিভক্ত। পবিত্র। শক্তিশালী।
ধনভাবে সূর্যের প্রতিকারের মণ্ডল
১. অরুণোদয় অর্ঘ্য (সূর্যোদয়ে জলের নিবেদন)
“৪৫ দিন ধরে, সূর্যোদয়ের আগে, তামার পাত্রে জল দিয়ে সূর্যকে অর্ঘ্য দিন। মুখ পূর্বদিকে রেখে রবির ১২ নাম জপ করুন:
মিত্র, রবি, সূর্য, ভানু, খগ, পূষা, হিরণ্যগর্ভ, মারিচি, আদিত্য, সবিতা, অর্ক, ভাস্কর।”
এই আচার/ আচরণ সূর্যের মধ্যে থাকা অহংকারকে নম্র করে। এটি আলোকে বজায় রাখে— কিন্তু তাপ নয়।
তামা সূর্যের ধাতু।
জল সূর্যের তীব্রতাকে শীতল করে।
অর্ঘ্য শৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ নিয়ম তৈরি করে।
২. রবিবার পিতৃসেবা
প্রতিটি রবিবার সকালে:
আদিত্য তাঁর প্রয়াত পিতার লাঠি পালিশ করে।
তারপর ১ কেজি গম বা গুড় দান করে এক বৃদ্ধ পিতৃপ্রতিম ব্যক্তিকে—বিশেষত শিক্ষক, কৃষক, বা পিতৃহীন বৃদ্ধকে।
এই কর্ম কেন?
সূর্য পিতা ও পূর্বজদের কর্মফল নিয়ন্ত্রণ করে। যখন আপনি পিতৃপ্রতিমদের সেবা করেন, তখন সূর্যের আত্মা নম্র হয়। আশীর্বাদ আসে।
৩. কণ্ঠস্বর নিরীক্ষণের সাধনা
আদিত্য এক নতুন সাধনা শুরু করে:
প্রতিদিন নিজের কথোপকথন ফোনে রেকর্ড করে।
রাতে ১২ মিনিট শুনে।
যেখানে তার কণ্ঠস্বর অহংকারী, চাপিয়ে দেওয়া, বা অবজ্ঞাসূচক হয়ে পড়ে—তা চিহ্নিত করে।
“যখন রবি দ্বিতীয় ভাবে থাকে, তখন আপনার বাক্যই আপনার কর্ম।
প্রতিদিন সেটি নিরীক্ষণ করুন—তাহলে আপনার শব্দ হয়ে উঠবে মন্ত্র।”
সম্ভাব্য ফলাফল কি হতে পারে
৩০ সূর্যোদয়ের পরে কিছু বদলাতে থাকে।
আদিত্যের ইমেইল নম্র হয়।
কর্মীরা এখন তাকে “স্যার” বলে—ভয় থেকে নয়, সম্মান থেকে।
অডিটরদের আবার আমন্ত্রণ জানায়।
পুরনো পরিবেশককে পুনঃনিযুক্ত করে—যিনি ভারতের ফেয়ার-ট্রেড মসলার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হন।
আন্তর্জাতিক ক্রেতারাও ফিরে আসে—এবার বিশ্বাস নিয়ে।
সে সূর্যের আগুনকে দীর্ঘস্থায়ী পণ্যে রূপান্তর করে।
তার বোর্ডরুমে এখন শুরু হয় একটি নিঃশব্দ তামার জলের মগ দিয়ে—তার পিতার ছবির সামনে রাখা।
সোনা হারিয়ে যায়নি। তা রূপান্তরিত হয়েছে এক রাজদণ্ডে।
জ্যোতিষভিত্তিক মন্তব্য
দ্বিতীয় ভাবে সূর্য বক্তব্য, নেতৃত্ব ও রাজসুলভ উপার্জনের শক্তি দেয়।
কিন্তু যদি অহংকার ঢুকে পড়ে, রবি নিজেই নিজের সিংহাসন গলিয়ে দেয়।
পরিহারের-এর নিয়ম:
আচার/আচরণ দিয়ে আগুনকে ঠাণ্ডা করো।
সেবার মাধ্যমে অহংকারকে ঠাণ্ডা করো।
শব্দকে রূপান্তর করো শব্দ-ব্রহ্মে।
তখন সেই সূর্য, যা আগে পোড়াত—তা আলো ছড়াতে শুরু করে।
এই লেখাটিতে প্রত্যেক লাইনে শুধু এমন কারকত্বের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যা আপনাকে ধরতে হবে। বস্তু, তত্ব, ব্যক্তি, চরিত্র, পরিস্থিতি সবকিছুই কোনো না কোনো ভাবে কারকত্বের ইঙ্গিত দেয়।
তাই যখন আপনি কাউকে জ্যোতিষ সঙ্ক্রান্তে পরামর্শ দেন তখন তার মুখ থেকে যা পরিস্থিতি শুনছেন, ঘটনা শুনছেন তার দ্বারা আপনি তার কারকত্ব ধরে বাস্তবিক জ্যোতিষীয় মতে পরিস্থিতির অবলোকন করছেন।




খুব ভাল লাগল