মহাশিবরাত্রি: আপনার বর্ষফলের প্রধাণ গ্রহের প্রতিকার ও শিবরাত্রির পুজা
- anirudhbhattachary5
- Feb 21
- 2 min read

শিবরাত্রি
আমরা সকলেই জানি যে প্রত্যেক বছর একটি নির্দিষ্ট দিনে আমরা মহাশিবরাত্রি পালন করি।মহাশিবরাত্রি পালন করা হয় রাত্রিতে। শিব রাত্রি প্রত্যেক মাসের কৃষ্ণপক্ষের নিশিথ কালে থাকে,কিন্তু এই ১১ তম শিবরাত্রি হলো মহাশিবরাত্রি।মহাশিবরাত্রি ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতূর্দশী তিথিতে উদযাপিত হয়। ২০২৫ এ চতূর্দশী তিথি ২৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১:০৮ থেকে আরম্ভ হয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮:৫৪ তে সমাপ্ত হবে। মহাশিবরাত্রির তিথিতে রাত্রিমান যা হবে, তাকে চারটি ভাগে বিভক্ত করে, চারটি প্রহর নির্দিষ্ট করা হয়।পারম্পরিক ভাবে,এই চারটি প্রহরেই শিবকে বিভিন্ন ভাবে পুজা করা হয়,ভারতে-র পূর্ব,পশ্চিম,উত্তর, দক্ষিন প্রান্তে মূলত সব সমান থাকলেও এই পুজার সময় কিছু ভিন্নতা দেখা যায়।
অনেকেই ভিন্ন রকমের স্তোত্র পাঠ করেন। যার যেমন বিশ্বাস,যার যেমন সংস্কৃতি।যদি কেউ শিবের একটি মন্ত্রও জানেন না,তাহলে বলা হয় যে সংস্কৃতের বর্ণমালা পাঠ করলেও শিব খুশী হন,কারণ আমাদের সংস্কৃতিতে যেই সব ধ্বনিকে বর্ণ মালায় চিহ্নিত করা হয়েছে,তারা সবই শিবের ডমরুর ধ্বনি থেকে উৎপত্তি হয়েছে। এবং সব মন্ত্র, স্তোত্র এদের সমাবেশে সৃষ্ট।
দক্ষিণভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্র মতে এই শিবরাত্রির পুজায় কিছু জ্যোতিষের বিষয়কে পুজার বিধিতে সম্মিলিত করা হয়। এই বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয় যে প্রত্যেক ব্যক্তির প্রত্যেক বছর সমান হয় না। সকলের নিজস্ব অস্তিত্ব ও ব্যক্তিত্ব আছে।সেই জন্য শিবরাত্রির পুজায় তার নিজস্বতা থাকতে হবে।
যদি আপনি জ্যোতিষশাস্ত্র প্রাথমিক ভাবে জানেন, তাহলে নিম্নলিখিত ধাপগুলি অনুসরণ করুন।
প্রথম- আপনার জন্ম কুন্ডলী তৈরী করে নিন।
দ্বিতীয়- আপনার তাজক বর্ষফল কুন্ডলী তৈরী করে নিন। যখন আপনি এই কুন্ডলী তৈরী করবেন, একটি ‘ভাবে’ আপনি মুন্থা দেখতে পাবেন। সাধারণত আজকের সফ্টওয়্যারে এটি MUN বলে চিহ্নিত হয়। বর্ষফল কুন্ডলীতে মুন্থা হলো অতীব গুরুত্বপূর্ণ। মুন্থা কোন ভাবে, বা কোন রাশিতে তার স্বামী গ্রহ হলেন মুন্থেশ। কুন্ডলীতে তার পরিস্থিতি নির্ধারিত করবে, যে এই বছরটি আপনার কেমন যাবে। (এখানে বলে রাখা আবশ্যক যে আপনি জ্যোতিষের সাধারণ নিয়ম দিয়ে তাজক ছক দেখতে পারবেন না। তার নিয়মাবলী সম্পূর্ণ আলাদা। তার যোগ, গ্রহের ডিগ্রি দ্বারা তৈরী হয়। আমাদের এখনের বিষয়টি তাই নয়, তাই তা এখানে উল্লেখ করছি না)।
এখন আমরা শুধু নির্দিষ্ট করতে চাইছি, মুন্থা বা মুন্থেশ কে এবং তার ডিগ্রি কত?
তৃতীয়- এখন আমরা রাশি ডিগ্রি অনুযায়ী প্রহর নির্দিষ্ট করবো।
০ ডিগ্রি থেকে ৭.৫ ডিগ্রি - প্রথম প্রহর
৭.৫ ডিগ্রি থেকে ১৫ ডিগ্রি - দ্বিতীয় প্রহর
১৫ ডিগ্রি থেকে ২২.৫ ডিগ্রি - তৃতীয় প্রহর
২২.৫ ডিগ্রি থেকে ৩০ ডিগ্রি - চতূর্থ প্রহর
চতূর্থ- আপনি আপনার মুন্থেশের ডিগ্রি দেখে নিন। সেই ডিগ্রি উল্লিখিত ডিগ্রি হিসাবে কোন প্রহরে পড়ছে দেখে নিন। সেই প্রহরে আপনি পুজা করা আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এই বছর মহাশিবরাত্রি রাত্রিমান অনুযায়ী চার প্রহরে বিভক্ত করলে নিম্নলিখিত সময়ে হবে।
(আপনার আঞ্চলিক সময় ভিন্ন হতে পারে)
নিশীথ কাল ইংরেজি ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১২:০৯ মিনিট থেকে ১২:৫৯ মিনিট পর্যন্ত
সন্ধ্যা ৬:১৯ - রাত্রি ৯:২৬ - প্রথম প্রহর (ইংরেজী- ২৬ ফেব্রুয়ারি)
রাত্রি ৯:২৬ - ১২:৩৪ রাত্রি - দ্বিতীয় প্রহর ( ইংরেজী - ২৭ ফেব্রুয়ারি)
রাত্রি ১২:৩৪ - ৩:৪১ রাত্রি - তৃতীয় প্রহর
রাত্রি ৩:৪১- ৬:৪৮ সকাল, চতূর্থ প্রহর
২৭ মার্চ সকাল ৬:৪৮ এর পর এবং সকাল ৮:৫৪ এর মধ্যে আপনি নিজের উপবাস শেষ করতে পারেন। যদি কেউ মহাশিবরাত্রিতে উপবাস করেছেন,প্রত্যেক প্রহরে পুজা,অভিষেক করেছেন,রাত্রিতে এক মিনিটের জন্যও ঘুমিয়ে পড়েন নি, পরের দিন যখন উপবাস শেষ করেছেন, তারপরেও দুপুরে ঘুমিয়ে পড়েননি, তারা সর্বাধিক উপকৃত হবেন। ( এই মাস ঋতু, পক্ষ, তিথি ইত্যাদির সাথে এর সম্পর্ক আছে)।
আপনি নিজের বর্ষফল ছক হিসাবে মুন্থা নির্দিষ্ট করার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যে মহাশিবরাত্রি কত তারিখে এবং আপনার জন্মদিন কোন মাসের কত তারিখে,নিশ্চিত করতেহবে তা কি শিব রাত্রির আগে না পরে। তার অনুরুপ আপনি বর্ষফল বছর ২০২৪ না ২০২৫ দেখবেন।
অভিষেক
প্রত্যেক প্রহরে ভিন্ন বস্তুর দ্বারা অভিষেকের গুরুত্ব ভিন্ন।
প্রথম প্রহরে - জল
দ্ব্তীয় প্রহরে - দধী
তৃতীয় প্রহরে - ঘৃত
চতূর্থ প্রহরে - মধু
এখন আপনাকে দেখতে হবে আপনার মুন্থেশ কোন গ্রহ। সেই অনুরুপ, তার প্রতীক বস্তু দিয়ে আপনি অভিষেক করবেন। উদাহরণ: শনি। তাহলে তৈল দিয়েও অভিষেক করবেন।
এরপর বিল্বপত্র, চন্দন, কুমকুম, দ্বীপ ধুপ দেওয়া, আঁক ফুল, বিভুতি যা দিয়ে পুজা করা হয় তা করুন।
যারা রাহু দ্বারা পীড়িত, তারা আগে থেকে কিছুটা জব কাঁচা দুধে ভিজিয়ে রেখে দিন। এবং সেই দুধ শিবরাত্রিতে শিবলিঙ্গে দিন। সেই সময় সঙ্গে কিছু কালো তিল দিয়ে দিন।
যাদের দ্বারা সম্ভব তারা পঞ্চামৃত, ইক্ষুরস ( আঁখের রস), দাড়িম রস ( বেদানা) গর্ভোদক(eternal grass), দর্ভোদক(ডাবের জল), ভস্মোদক, গৌশৃংগোদক ইত্যাদি অর্পন করতে পারেন।গৌশৃংগোদক গরুর সিং ধোয়া জল।তবে এই সব আঞ্চলিক বিষয়।
যদি উপরিউল্লিখিত জ্যোতিষ গণনা আপনার পক্ষে সম্ভব নয় তাহলে, সাধারণত আমরা সবাই নিজের চন্দ্র রাশি জানি।রাশি অনুযায়ী কোন প্রহরের পুজা আমাদের জন্য লাভজনক তা নিম্নে দেখতে পারেন-
চন্দ্র রাশি অনুযায়ী-
মেষ, সিংহ, ধনু - প্রথম প্রহর
বৃষভ, কন্যা, মকর - দ্বিতীয় প্রহর
মিথুন, তুলা, কুম্ভ - তৃতীয় প্রহর
কর্কট, বৃশ্চিক, মীন - চতূর্থ প্রহর
মহাশিবরাত্রির পুজা তাদের করা শুভ যাদের দশা অন্তর্দশা ২য়, ৭ম ভাবের সাথে যুক্ত, যারা রাহু, শনি, বা চন্দ্রের পীড়াদায়ক দশা দিয়ে যাচ্ছেন, অথবা যারা ব্যাতিপাত, ভিষ্টি, ভদ্রা ইত্যাদি যোগ- করনে জন্মেছেন।
এই লেখাটি তাদের জন্য যারা জ্যোতিষ বিষয়ে আগ্রহ রাখেন, বা ইচ্ছুক। নিজের পারম্পরিক সংস্কৃতি অনুসারে যা করেন, বা করে আসছেন, তা ভুল বা তা ঠিক নয় এমন কোনো কথা মনে আনতে হবে না। প্রত্যেক প্রহরে শিব ভিন্ন রুপে থাকবেন। কখনো সৌম্য, কখনো অঘোর, কখনো বাম দেব কখনো সদোজগ। এই প্রত্যেক রুপকে জ্যোতিষের বিভিন্ন রাশি, যোগ, করন ইত্যাদির সাথে যুক্ত করা হয়েছে।
এটি মাত্র একটি বাহ্যিক ধারণা।আমাদের জ্যোতিষশাস্ত্রের বর্গ ছক অনুযায়ী শিবের কোন রুপের সাথে আমাদের এই জীবনের সম্পর্ক আছে, তা চিহ্নিত করা হয়। তবে তা পরে আবার কোনো সময় আলোচনা করা হবে।শিবরাত্রিতে শিবকে শুধু উল্লিখিত বস্তু নয়, নিজের ভয়, অভিমান, দর্প, গর্ব, ইত্যাদিও উৎসর্গ করতে হয়।
ওঁ তৎ সৎ
মুন্থেশ বুধ হলে কি দিয়ে অভিষেক করব?
ধন্যবাদ