top of page

নবরাত্রী- মা শৈলপুত্রী

প্রথম নবরাত্রী -মা শৈলপুত্রী
প্রথম নবরাত্রী -মা শৈলপুত্রী

“वन्दे वाञ्छितलाभाय चन्द्रार्धकृतशेखराम्।

वृषारूढाम् शूलधरां शैलपुत्रीं यशस्विनीम्॥”

আমি বন্দনা করি সেই যশস্বিনী মা শৈলপুত্রীকে—

যিনি ইচ্ছিত ফলদানকারী,

অর্ধচন্দ্রযুক্ত মুকুটধারিণী,

বৃষভারূঢ়া,

এবং ত্রিশূলধারিণী।


সতী, মহাদেবের পত্নী, পিতৃগৃহে পিতা দক্ষের যজ্ঞে স্বামীর অবমাননা সহ্য করতে না পেরে যোগাগ্নিতে দেহত্যাগ করেন। দেবলোক শোকাচ্ছন্ন হয়, আর মহাদেব ভীষণ তাণ্ডব করে বিশ্ববিধ্বংসের উপক্রম করেন।

পরবর্তীতে সতী পুনর্জন্ম গ্রহণ করেন হিমালয়রাজের গৃহে কন্যা রূপে। পাহাড়রাজের কন্যা হওয়ায় তাঁর নাম হয় শৈলপুত্রী।তিনি শান্ত, গম্ভীর এবং অটল রূপিণী। নন্দী ষাঁড় তাঁর বাহন, হাতে কমলফুল ও ত্রিশূল, মস্তকে অর্ধচন্দ্রশোভিত।

শৈলপুত্রী দেবীই পরবর্তীকালে পার্বতী রূপে মহাদেবকে পতিরূপে লাভ করেন এবং মহিষাসুর বিনাশে দুর্গারূপে প্রকাশিত হন।

মা শৈলপুত্রী মূলাধার চক্রের অধিষ্ঠাত্রী দেবী। তাঁর পূজায়(আরাধনায়) জীবনে দৃঢ় ভিত্তি স্থাপিত হয়, ভয় ও অস্থিরতা দূর হয়, ভক্ত সাহস ও স্থিরতা অর্জন করে।


জ‍্যোতিষীয় কিছু কথা :

ভৃগু নন্দী নাড়ী জ‍্যোতিষে আমরা গ্রহদের অবস্থান ভিত্তিক কিছু analyse করি, কোন গ্রহ কোন গ্রহের আগে, পরে, কোন গ্রহ দুই গ্রহের মধ‍্যে চাপে আছে।

সরল সিদ্ধান্ত: যখন চন্দ্র চাপে, ছড়িয়ে বা ভীত—তখন শৈলপুত্রী দেবীর কাছে যান। তিনি আগে মাটি (ভিত/ স্থিরতা) দেন, পরে গৌরব।

মৌল শক্তি-

সরল, শক্তিশালী এবং মূলে দৃঢ়।

যখন জীবনের অধ্যায় নড়বড়ে লাগে, তখন কোনো বড় নাটকীয়তার দরকার হয় না—তখন আপনার পায়ের নিচে একটি পাহাড় প্রয়োজন ( শক্ত কঠিন প্রস্তর ভিত) । সেটিই মা শৈলপুত্রী। হিমালয়ের কন্যা, নন্দী (বৃষ) বাহনে আরোহিনী, হাতে ত্রিশূল ও পদ্ম—তিনি একসাথে ভূমি + ইচ্ছাশক্তি + পবিত্রতা।

প্রথম দিনটি হলো মূলাধার (মূল চক্র) পুনরায় স্থাপনের দিন। এই যায়গায় সঠিক শুরু করুন, বাকিটা দৃঢ়ভাবে দাঁড়াবে।

শৈলপুত্রী কোথায় সাহায্য করেন

BNN-এ আমরা গ্রহকে দেখি শক্তির ধারাবাহিকতা হিসেবে (কে সামনে, কে পিছনে, কে চাপ দিচ্ছে), এবং ত্রিকোণ (১-৫-৯) ও দৃষ্টির (৩-৭-১১) সূত্রে।

শৈলপুত্রী = ভূমি + চন্দ্র + বৃষ/নন্দী + শিব-শৃঙ্খলা।

যখন মনকে স্থির করতে হয় এবং জীবনে নতুন, দৃঢ় সূচনা দরকার হয়—তখন তাঁকে আহ্বান করুন।

বিশেষত যেসব সংযোগ শৈলপুত্রী উপাসনায় ফলপ্রদ:

চন্দ্র + শনি (একসাথে / শনি চন্দ্রের আগে ~১৫° এর মধ্যে)

মন ভারী হয়ে যায়, ভীত, কর্তব্যপরায়ণ; ঘুম ও আত্মবিশ্বাস নষ্ট হয়।শৈলপুত্রী মূলকে স্থির করেন, ভবিষ্যতের ভয় সরান, মাথা ঠান্ডা করেন, পদক্ষেপ দৃঢ় করেন।

চন্দ্র পাপগ্রহ দ্বারা ঘেরা (পাপ-কার্তরী যোগ)

চাপের মধ্যে আটকে পড়া; সহায়তার অভাব।শৈলপুত্রী মনের চারপাশে “জায়গা” তৈরি করেন; সিদ্ধান্ত সহজ ও স্থিতিশীল হয়।

চন্দ্র + রাহু/কেতু (গ্রহণ যোগ) অথবা চন্দ্র বৃষ/বৃশ্চিক অক্ষে পীড়িত

মা/মানসিক-পুষ্টি নষ্ট হয়; মেজাজ অস্থির।নন্দী সূত্র (বৃষ = ষাঁড়): উপাসনা আনন্দ ও চিন্তা শৃঙ্খলার ভারসাম্য আনে, অতিরিক্ত চিন্তা থামায়, মাতৃরেখা নিরাময় করে।

চন্দ্র–মঙ্গল (Moon + Mars) উত্তপ্ত, বিশেষত কেন্দ্রস্থ ঘরে

কর্মশক্তি আছে কিন্তু মন অস্থির; রাগে ক্ষতি হয়।ত্রিশূল সূত্র: শৈলপুত্রী মঙ্গলকে রূপান্তরিত করেন নির্মল সাহসে—সম্পর্ক না পুড়িয়ে কর্ম করায়।

চন্দ্র ৪–১০ অক্ষে শনি/মঙ্গলের দৃষ্টি

সংসার বনাম কর্মক্ষেত্র টানাপোড়েন; হৃদয় এক কথা বলে, কর্তব্য আরেক।উপাসনা মেরুদণ্ড যোগায়/শক্ত করে—দুটোই সামলাতে সাহায্য করে।

চন্দ্র সন্ধি ডিগ্রি (০°–৩° বা ২৭°–৩০°) বা খুব ধীর/দ্রুত চন্দ্র

সূচনা ভেস্তে যায়; পরিকল্পনার শেকড় গজায় না।মূল চক্র সেতু: শৈলপুত্রী শুরুতে নোঙর নামান, মন মস্তিষ্কে পরিকল্পনা স্থির করেন; প্রকল্প বাস্তবে জন্ম নেয়।

শুক্র + চন্দ্র ভূমিক/ পৃথিবী রাশিতে, তবু জীবন অস্থির

স্বস্তি আছে কিন্তু মন ক্ষতির ভয় পায়।নন্দী (শুক্র/বৃষ) + শৈলপুত্রী: স্বস্তিকে নিরাপদ ভিত্তিতে রূপান্তরিত করে—গৃহ, বিবাহ, অর্থ নিরাপদ লাগে।

চন্দ্র সূর্যের পেছনে বা লগ্নেশের পেছনে এবং পাপগ্রহের বাধা

আত্মবিশ্বাস দেরিতে আসে; অন্যদের থেকে পরে শুরু হয়।উপাসনা শান্ত গতি আনে—বিলম্বিত শুরু, দৃঢ় সমাপ্তি।

আজকের প্রার্থনার পদ্ধতি

সময়: সূর্যোদয় থেকে দুপুর সেরা; নাহলে সূর্যাস্তের পর সন্ধ্যা।

বসন/আসন: পূর্বমুখী হয়ে বসুন। সাদা বা লাল কাপড় যথেষ্ট।

দীপ: বিশুদ্ধ গরুর ঘি-র প্রদীপ জ্বালান (শৈলপুত্রীর প্রিয়)।

অর্ঘ্য: সাদা ফুল (অথবা যে কোনো তাজা ফুল), সামান্য দুধ বা পায়েশ , আর একটি পরিষ্কার পাথর/নুড়ি যা হিমালয়কে প্রতীকী করবে (নবরাত্রির ৯ টি দিন তা বেদিতে রাখুন)।

মন্ত্র (১০৮ বার বা ৯×১২)( আপনার সুবিধা মতে ৯ দিয়ে গুন করে)

“ॐ ऐं ह्रीं क्लीं शैलपुत्र्यै नमः।”

“ওঁ ঐঁ হ্রীঁ ক্রীঁ শৈলপুত্র্যৈ নমঃ।”

এই মন্ত্র জপ করলে আপনি মা দুর্গার প্রথম স্বরূপ মা শৈলপুত্রীর আরাধনা করতে পারবেন।

বিশেষে দ্রষ্টব্য: জপের সময় মেরুদণ্ড সোজা রাখুন এবং অনুভব করুন—যেন ওজন আপনার আসনে নেমে যাচ্ছে—আপনার ভিতরে পাহাড় গড়ে উঠছে। আপনার একটি দৃড় ভিত আছে।

Comments

Rated 0 out of 5 stars.
No ratings yet

Add a rating

একজন অ্যাস্ট্রো বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করুন

Thanks for submitting!

আমাদের অন্যত্র অনুসরণ করুন

  • Facebook
  • Instagram
Sun for enlightenment. A human palm for action and knowing self, ashwattha depicts ancient knowledge

জ্যোতিষশাস্ত্র এবং আরও অনেক কিছু সম্পর্কে আপডেট থাকুন!

Timetalk কমিউনিটিতে স্বাগতম।

  • Instagram
  • Facebook
  • Youtube

© 2024 Timetalk Astro দ্বারা। Wix দ্বারা চালিত এবং সুরক্ষিত

bottom of page